Thursday, October 1, 2015

পি এল সি (PLC) প্রোগ্রামিং ৪

ল্যাডার লজিক প্রোগ্রামিংঃ
ইতিপূর্বে আমরা Ladder Logic এর বেসিক দেখেছি। অর্থাৎ ল্যাডার লজিক দিয়ে কিভাবে কাজ করা যায়। আমরা একটু বাস্তব মুখি প্রোগ্রামের দিকে যাব। 
উধারন হিসাবে ধরুন, আপনার বেডরুমে একটা সিলিং ফ্যান আছে যাকে আপনি পিএলসি দিয়ে কল্ট্রোল করতে চাচ্ছেন। আপনি এক কথায় উত্তর দিবেন যে আমি পারব। কারন, পুরবেই তো আমরা একটি বাতি জালানো ও নেভানোর প্রোগ্রাম করা শিখলাম। এটা সত্যা কথা। কিন্তু ওই প্রোগ্রামের কিছু লিমিটেসন আছে।
  • আপনাকে সব সময় সুইচ চেপে ধরে রাখতে হবে। সুইচ ছেড়ে দিলে ফ্যান চলা বন্ধ হয়ে যাবে। (পুশ সুইচ ব্যাবহার করার কারনে)
  • কোন কারনে ফ্যান গরম হলে বা কথাও আগুন ধরলে তা বন্ধ করা সমস্যা হবে। 



আপনি ল্যাডার প্রগ্রামিং টি উপরের চিত্রের মত করে তৈরি করতে পারেন। যখন আপনি I2 সুইচ অন করেন রাখেন তাহলে Q1 কন্টাক্ট পাবে। আবার I2 প্রেস করলে Q1 এর কন্টাক্ট বা সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। অর্থাৎ I2 এখানে ইমারজেন্সি সুইচ হিসাবে কাজ করান হয়েছে। 

এই প্রোগ্রামের একটি সমস্যা আছে তা হোল, আপনার ব্যাবহিত সুইচ গুল যদি পুশ বাটন টাইপ হয়ে থাকে তাহলে Q1 কে চালু রাখার জন্য বাটন চেপে ধরে রাখতে হবে। বাটন ছেড়ে দিলেই আপনার সার্কিট টি বন্ধ হয়ে যাবে। 

এই অসুবিধা দূর করার জন্য পি এল সি এর ল্যাডার লিজিক প্রগ্রামিং এ ল্যাচিং ব্যাবহার করা হয়। নিচের ছবি থেকে পার্থক্য খুজে বের করুন।      




দেখতে পাচ্ছেন Q1 নামের একটি অতিরিক্ত ওপেন কন্টাক ব্যাবহার করা হয়েছে। একে ল্যাচিং বলে।
প্রোগ্রাম এর বিস্তারিতঃ
আপনার বেড রুমের ফ্যান পি এল সি দিয়ে কন্ট্রল করার জন্য I1, I2 নামের দুইটি সুইচ ব্যাবহার করা হয়েছে। I2 এখানে ইমারজেন্সি সুইচ। আপনি যখন I1 প্রেস করবেন তখন অউটপুট Q1 কন্টাক পাবে। Q1 কন্টাক পাওয়ার সাথে সাথে ল্যাচিং করা ওপেন কন্টাক এর Q1 টি ক্লোজ কন্টাক হবে যার ফরলে Q1 কখনই বন্ধ হবে না। যদি I2 কে প্রেস করা হয় তাহলেই একমাত্র বন্দ হবে।   

পি এল সি প্রোগ্রামিং ৩

ল্যাডার লজিক (Ladder logic) প্রোগ্রামিংঃ 
LOGO!Soft Comfort নামের সফটওয়্যারটি ওপেন করুন। 

পাশের ব্লকে দেখান "Make Contact" নামক টুলস এ ক্লিক করে "I1" সিলেক্ট করে ওয়ার্কিং এরিয়া তে রাখতে মাউসের বাম বাটনে ক্লিক করুন। একই পদ্ধতিতে "Relay coil" এ ক্লিক করে ওয়ার্কিং এরিয়াতে রাখুন "Q1" হিসাবে। 
আপনার প্রোগ্রাম তৈরি হয়ে গেছে।
প্রোগ্রামের অউটপুট বা রেজান্ট দেখার জন্য Tools এ গিয়ে Simulator এ ক্লিক করুন। অথবা কী বোর্ড থেকে F3 চাপুন। 
সাধারন অবস্থায় আপনার সিমুলেটর সফটওয়্যারের নিচের দিকে চিত্রের মত দেখতে পাবেন। 
   এখানে I1 কে ইনপুট বা সুইচ হিসাবে দেখাচ্ছে এবং Q1 কে অউটপুট হিসাবে দেখাচ্ছে। 
আপনি যখন I1 এর উপর মাউস দিয়ে ক্লিক করবেন Q1 জলে উঠবে। I1 এর উপর আবার ক্লিক করলে দেখবেন Q1 বন্ধ হয়ে গেছে। নিচে ছবি আকারে দেয়া হোল। 
 অর্থার আপনি যে প্রোগ্রামটি তৈরি করলেন তার বিস্তারিত বর্ণনা করলে বিসয়টি হবে ।
পি এল সি এর একটা ইনপুট ও একটা অউটপুট ব্যাবহার করব। ইনপুট হিসাবে I1 এবং অউটপুট হিসাবে Q1 ব্যাবহার করা হবে। যখনি I1 কে প্রেস করবেন তখন Q1 এ সংজুক্ত বাতি বা মটর যাই থাকুক পাওয়ার পাবে এবং কাজ করবে। আবার I1 প্রেস করলে Q1 এ সংজুক্ত থাকা ডিভাইস টি বন্ধ হয়ে যাবে। 




পি এল সি (PLC) টিউটোরিয়াল ২

ল্যাডার লজিক (Ladder Logic):
আমি অটোমেশন জগতে অনেকের সাথে কথা বলেছি। তাদের সফলতার সুরু বা শিক্ষার উপকরন সম্পরকে। অধিকাংস লোকই বলেছেন তারা তাদের লাইফ সুরু করেছে সিমেন্স লোগো পিএলসি দিয়ে। এবং LOGO!Soft Comfort নামের এই সফটওয়্যার দিয়েই অনেক বাঘা-বাঘা প্রোগ্রামারের হাতে খড়ি হয়েছে। এর মুল কারন এই পিএলসি টির দাম কম এবং সহজ লভ্য। আপনি চাইলে আপনার নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্র থেকে কিনে নিতে পারেন।

আমরা মুল আলোচলায় ফিরে এসেছি। ল্যাডার লজিক দিয়ে প্রোগ্রাম করার জন্য দুইটি সিম্বল ব্যাবরিত হয়।

১। নরমালি ওপেন কন্টাক্ট/ ওপেন কন্টাক্ট

২। নরমালি ক্লোজ কন্টাক্ট/ ক্লোজ কন্টাক্ট







সিমেন্সে ওয়েব সাইট থেকে LOGO!Soft Comfort নামের এই সফটওয়্যার টি ডাউনলোড করে, আপনার কম্পিউটারে ইন্সটল করুন। এবার সাধারন অন্য সব প্রোগ্রাম এর মত করে ওপেন করুন Start=>Program=>LOGO!Soft Comfort এ ক্লিক করুন। নিচের মত একটি পেজ ওপেন হবে।


এবার ফাইল নিউ থেকে Ladder Diagram (LAD) এ ক্লিক করুন। চিত্রে দেখান হয়েছে


  
নিচের মত একটি পেজ ওপেন হবে। 



এখন সুরু হোল আপনার পি এল সি সেখার পালা। আপনাকে অভিনন্দন। মনে রাখবেন, এই লাইনে সবাই প্রফেশনাল। সহজ কাজ কে আপনার সামনে এমন ভাবে উপস্থাপন করবে যে, আপনি ভয় পেয়ে যাবেন। অথবা কিছু দিন চেষ্টা করে মাথা-মুন্ডু কিছুই না বুঝতে পেরে প্রফেশনাল সের কাছে যাবেন টাকা দিয়ে সামান্য কিছু সেখার জন্য। টাকা দিয়ে শিখতে গেলে দেখবেন নতুন ধরেনের আরেক সমস্যা। 
ভয় পাওয়ার কিছু নেই এগুলো সব মানব সৃষ্ট সমস্যা। সময় নিয়ে চেষ্টা করুন আশা করি কিছু শিখতে পারবেন ওয়েব থেকেই। 
ধন্যবাদ সাথে থাকার জন্য..................     




পি এল সি টিউটোরিয়াল ১

প্রোগ্রামাবল লজিক কন্ট্রোলার এর সংক্ষিপ্ত নাম হল পিএলসি (PLC)। পিএলসি একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার বেসড ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস । যার মাধ্যমে যেকোন ধরেনের যন্ত্র কে স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেটেড করা যায়। একে মাইক্রোকন্ট্রোলার এর বিকল্প হিসাবেও ব্যাবহার করা যায়।
বাজারে বিভিন্ন্ ধরনের ও ব্যান্ডের পি এল সি পাওয়া যায়। সিমেন্স, অম্রন, মিতসুবিশি এদের মধ্যে অন্যতম বা আমাদের দেশে বহুল ব্যাবরিত।
পিএল সি রাসায়নিক শিল্পকারখানা, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট, হোম অটোমেশন, অটোম্যাটেড শিল্পকারখানাতে ব্যবহার করা হয়। 




পি এল সি এর গঠনঃ
আপনি হয়তো এরই মধ্যে জেনে গেছেন পি এল সি একটি মাইক্রোকন্ট্রোলার বেইসড ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস। সুতরাং মাইক্রোকন্ট্রোলার এর মত এর মধ্যে যে অংশ গুলো থাকে তা হল।
১। ইনপুট বা আউটপুট ইউনিট
২। সেন্ট্রাল প্রসেসসিং ইউনিট (CPU)
৩। পাওয়ার সুপ্লাই ইউনিট

আপনার হাতের মোবাইল বা স্মারটফোন সেখানও এই টিনটা অংশ আছে । তাই নতুন করে আলোচনায় গিয়ে অযথা সময় নষ্ট করার কোন প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
সব সময় মনে রাখবেন "প্রথমে প্রাক্টিক্যাল পরে থিওরি" আমরা যদি প্রথমে বিশাল বিশাল থিওরি আপনাদের সামনে উপস্থাপন করি অনেক ভয় পেয়ে যেতে পারেন। মনে হতে পারে "পি এল সি" আসলে অনেক কঠিন। এটা একেবারেই ভুল ধারনা  "পি এল সি" বিসয়টি অনেক সহজ জিনিস। আমরা ধিরে ধিরে শিখবো। কঠিন বা থিওরি বিসয় গুলি পরে আলোচনা করব এবং শিখব। পিএলসি কে কঠিন করে আপনার সামনে উপস্থাপন না করলে অনেক ধান্দাবাজ দের ইঙ্কামের রাস্তা বন্দ হয়ে যাবে। তাই তারা সহজ জিনিস কে কঠিন করে দেখায়। আসলে তা মোটেও ঠিক নয়।   

আসল কথায় আসা যাক। মনে রাখবেন "পি এল সি" এর দুইটা পার্ট আছে।
১। হার্ডওয়্যার - এখানে আপনার করনীয় বা শিক্ষনিও হল, এটি কিছু ইলেক্ট্রনিক্স পার্টস এর সম্পন্নয়ে গঠিত। উক্ত পার্টস কোন কারনে নষ্ট হয়ে "পিএলসি" কাজ না চাইলে আপনি এই অংশটি রিপিয়ারিং করতে পারবেন।
২। সফটওয়্যার- আমরা একে প্রোগ্রামিং বলে থাকি। পি এল সি কে প্রোগ্রামিং করার এক ধরনে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যাবহার করা হয়। একেক কোম্পানির পিএলসি এর জন্য একেক ধরনের সফটওয়্যার থাকে। সফটওয়্যার একাধিক হলেও, আমরা প্রোগ্রামিং জন্য "ল্যাডার লজিক" ব্যাবহার করে থাকি।
সুতারাং আপনি বুঝে গেছেন আমাদেরকে "ল্যাডার লজিক" ভাল ভাবে শিখতে হবে। আপনি যদি ল্যাডার লজিক এর মাধ্যমে প্রোগ্রাম তইরি করতে পারেন তাহলে আপনার তৈরিকৃত প্রোগ্রাম যে কোন পিএলসি তে ব্যাবহার করা যাবে সামান্য কিছু পরিবত্তন করে। সুতারাং যেকোনো একটিকে ভাল ভাবে আয়েত্ত করাই হোল আপনার কাজ। দেরি নয় চলুন আমরা "ল্যাডার লজিক" এর ব্যাবহার শিখতে সুরু করি।